অযতœ-অবহেলায় বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের স্মৃতিস্তম্ভ

Print Friendly and PDF

মহসিন মিলন, যশোর থেকে

সীমান্তবর্তী উপজেলা শার্শার কাশিপুর গ্রামে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের স্মৃতিস্তম্ভটি অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে  আছে অযতœ-অবহেলায়। সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করে জীবন দিয়ে যারা এই দেশকে ভালোবেসে স্বাধীন করেছিলেন, সেসব বীর সন্তানদের একজন বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ নূর মোহাম্মদ শেখ।
মহান মুক্তিযুদ্ধে তারা উপহার দিয়েছিল একটি স্বাধীন সার্বভৌমত্ব দেশ। সেই অসামান্য বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান বীরশ্রেষ্ঠ উপাধিতে ভূষিত হয়েছিল শহীদ নূর মোহাম্মদ শেখ।
বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদসহ সাত শহীদ মুক্তিযোদ্ধা চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন শার্শা উপজেলার  সীমান্তবর্তী কাশিপুর গ্রামের পুকুর পাড়ে। এই শহীদ সন্তানদের স্মৃতিরক্ষার্থে তৈরি করা হয়েছে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ নূর মোহাম্মদ শেখ স্মৃতিস্তম্ভ। কিন্তু এই স্মৃতিস্তম্ভ আজ পড়ে আছে অযতœ আর অবহেলায়।
স্মৃতিস্তম্ভটি সরকারিভাবে রক্ষণাবেক্ষণের কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে সীমান্তঘেঁষা গ্রামের এসব সূর্য সন্তানের কবরগুলো আজ গোচারণ ভূমিতে পরিণত হয়েছে। কেউ গোবরের জ্বালানি বানিয়ে শুকাচ্ছে কবরের ওপরেই। কেউ গরুর জন্য রেখেছে অস্থায়ী বাসস্থান তৈরি করে।
বেনাপোলের পাশেই সীমান্তবর্তী উপজেলা শার্শা। বেনাপোল থেকে মাত্র ২৫ কিলোমিটার উত্তরে সীমান্তঘেঁষা গ্রাম কাশিপুর। ওপারে রয়েছে ভারতের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার বয়রা গ্রাম। বাংলাদেশ সীমান্তের কাশিপুর পুকুরপাড়ে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন নূর মোহাম্মদসহ ৭ শহীদ মুক্তিযোদ্ধা। তাদের স্মরণেই এখানে নির্মাণ করা হয়েছে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ নূর মোহাম্মদ শেখ স্মৃতিস্তম্ভ।
বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ ছাড়া অপর ছয়জন হলেন- শহীদ সিপাহী আবদুস ছাত্তার, শহীদ এমসিএ সৈয়দ আতর আলী, শহীদ সিপাহী এনামূল হক, বাহাদুর গেরিলা শহীদ, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আবদুল আহাদ ও শহীদ সুবেদার মনিরুজ্জামান ।
বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ নূর মোহাম্মদ শেখ তৎকালীন সীমান্তরক্ষী বাহিনীর একজন ল্যান্স নায়েক ছিলেন। ১৯৭১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে ৪ মুক্তিযোদ্ধাসহ ঝিকরগাছা উপজেলার  গোয়ালহাটি এলাকায় টহলরত হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে শুরু হয় সম্মুখযুদ্ধ। নিজ জীবন উৎসর্গ করে ৩ মুক্তিযোদ্ধার জীবন রক্ষা করেন শহীদ নূর মোহাম্মদ শেখ।
গোয়ালহাটিতে মৃত্যুর পর কাশিপুর সীমান্তের মুক্ত এলাকায় পুকুরপাড়ে সম্পন্ন করা হয় শহীদ নূর মোহাম্মদ শেখের দাফন। পরবর্তীতে শহীদ হওয়া আরও ছয় জন বীর সন্তানকে ও দাফন করা হয় সেখানে।
জাতীয় দিবসগুলো এলেই শুরু হয় এই স্মৃতিস্তম্ভের ধোয়া-মোছার কাজ। বছরে দু-একবার ধুয়েমুছে জাতীয় দিবসগুলো পালনের পরেই যেন দায়িত্ব শেষ! কিন্তু স্মৃতিস্তম্ভসহ শহীদদের কবরগুলো সরকারিভাবে রক্ষণাবেক্ষণের কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি আজও। দীর্ঘদিন ধরে এসব মুক্তিযোদ্ধার স্মরণে এখানে একটি মুক্তিযোদ্ধা জাদুঘর স্থাপন করার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি।
শার্শা উপজেলা পরিষদ সিরাজুল হক মঞ্জু জানান, জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ সহ স্মৃতিস্তম্ভগুলো ঠিকমতো সংরক্ষণ হয় না। অপরিষ্কার ও নোংরা পরিবেশ খারাপের দিকে যাচ্ছে দিন দিন। স্মৃতিস্তম্ভটির  চারপাশে পাকা দেয়াল দিয়ে এটি সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা বীরশ্রেষ্ঠ  নূর মোহাম্মদ শেখসহ শহীদদের স্মৃতিস্তম্ভগুলো রক্ষণাবেক্ষণের জোর দাবি জানিয়েছেন সরকারের কাছে।

সাপ?তাহিক পতিবেদন

দেশজুড়ে
 মতামত সমূহ
পিছনে 
 আপনার মতামত লিখুন
English বাংলা
নাম:
ই-মেইল:
মন্তব্য :

Please enter the text shown in the image.