স্বরলিপি কালচারাল একাডেমি, টোকিওর বার্ষিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন দিবস ২০১৮

Print Friendly and PDF

জা পা ন

রাহমান মনি

দীর্ঘদিন  পর একটি বিশেষ দিন উপভোগ করল জাপান প্রবাসীরা। দিনভর আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠেছিল সর্বস্তরের প্রবাসীরা। আর এই উপভোগ্য দিবসটির আয়োজন করেছিল ‘স্বরলিপি কালচারাল একাডেমি, টোকিও’ নামক একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন।
জাপান প্রবাসীদের অত্যন্ত প্রিয় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘স্বরিলিপি কালচারাল একাডেমি, টোকিও’ তাদের বার্ষিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন দিবস পালন উপলক্ষে এমন আনন্দঘন মহতী দিবসের আয়োজন করে। আর এর নেপথ্যের কারিগর ছিলেন সর্বজনশ্রদ্ধেয় মুনশী কে. আজাদ এবং রোকেয়া সুলতানা রেণু আজাদের নেতৃত্বে স্বরলিপির সকল সদস্য/সদস্যা।
স্বরলিপির দীর্ঘদিন পথচলায় যে সমস্ত বন্ধু, সুহৃদ, শুভানুধ্যায়ী, পৃষ্ঠপোষকরা সহযোগিতা করে আসছে সেই সব সুহৃদ এবং জাপান প্রবাসীদের দ্বারা পরিচালিত বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয়, ব্যবসায়িক, পেশাজীবী ও আঞ্চলিক সংগঠনসমূহের নেতৃবর্গের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও ধন্যবাদ জানানোর জন্য ২৮ অক্টোবর ২০১৮ টোকিওর অদূরে চিবা প্রদেশের ‘চিবা পোর্ট পার্ক’-এর সমুদ্র পাড়ে, ছায়াঘেরা সবুজ চত্বরে ধন্যবাদ জ্ঞাপন দিবস নামে এক প্রীতিভোজের আয়োজন করে।
স্বরলিপির আহ্বানে সাড়া দিয়ে সর্বস্তরের প্রবাসীদের সঙ্গে বাংলাদেশ দূতাবাস কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ দিনভর আনন্দ উল্লাসে মেতে থাকেন। বড়দের বিভিন্ন আড্ডার পাশাপাশি শিশু-কিশোররা বিভিন্ন খেলনা সামগ্রী নিয়ে খোলা ময়দানে ছুটোছুটি, অনেকটা বনভোজনের আমেজ বিরাজ করে আয়োজন স্থানটিতে।
আর এই ছুটোছুটি হৈ হল্লা করার অন্যতম কারণ হচ্ছে খোলা ময়দান। প্রবাসীদের দ্বারা আয়োজিত প্রায় সব আয়োজনই হয়ে থাকে হলের ভেতর, চার দেয়ালের গি র ভেতর। সেখানে থাকে বিভিন্ন বিধিনিষেধ যা শিশু-কিশোরদের ছুটোছুটির অন্তরায়। তাই খোলা ময়দান যেন শিশু-কিশোরদের হৈ হল্লায় ভিন্ন মাত্রা এনে দেয়।
স্বরলিপি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই শিশু-কিশোরদের জন্য শিশুবান্ধব বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে চলেছে। ড. তপন কুমার পাল এবং তনুশ্রী গোলদার বিশ্বাসের পরিচালনায় শিশু-কিশোরদের জন্য রয়েছে ‘স্বরলিপি কালচারাল একাডেমি টোকিওর পরিচালনায় বাংলা শিক্ষা কার্যক্রম। তাই সর্ব ক্ষেত্রেই যে স্বরলিপি শিশু-কিশোরদের প্রতি বিশেষ নজর দেবে এটাই স্বাভাবিক। তাই, খাবার পরিবেশনায় মনোযোগ দেয়া হয়েছিল শিশু-কিশোরদের প্রতিও।
এছাড়াও দেশি-বিদেশি, ছোট-বড় সকলের কথা চিন্তা করেই হরেক রকমের খাবারে পরিবেশন করা হয় মধ্যাহ্নভোজে।
খাবারের পরিবেশনায় ঘরোয়া আমেজ এবং রকমারী স্বাদ ভোলার নয়। সেই সঙ্গে পড়ন্ত বিকেলে বিশেষ ঢালী বাবুর পরিচালনায় সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় চা-নাস্তার সঙ্গে ঘরে বানানো মিষ্টান্ন এবং ঝাল মুড়ি ব্যস্ততম প্রবাস জীবনে ছিল অমৃতের স্বাদ। যদিও প্রতিটি খাবারই স্বরলিপির সদস্যদের আন্তরিকতার ছোঁয়ায় ঘরে বানানো হয়েছিল।
শরৎ কালের নাতিশীতোষ্ণ উষ্ণতায়, রৌদ্রোজ্জ্বল চমৎকার আবহাওয়ায় মনোরম পরিবেশে স্বরলিপির আন্তরিক আতিথেয়তা উপস্থিত অতিথিবৃন্দ মনে রাখবেন বেশ। মনোরম পরিবেশে এত সুন্দর আয়োজনে, খাবারে আন্তরিক আপ্যায়নের জন্য স্বরলিপি কালচারাল একাডেমিকে ধন্যবাদ জানাতে কার্পণ্য করেননি  আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ।
মধ্যাহ্নভোজ-উত্তর স্বরিলিপি কালচারাল একাডেমি, টোকিওর অধ্যক্ষ এমডি. নাসিরুল হাকিম আমন্ত্রিত অতিথিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ভবিষ্যতেও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
এরপর বাবু ঢালীর পরিচালনায় এক সংগীতানুষ্ঠানে স্বরলিপির শিল্পীরা সংগীত পরিবেশন করে।  স্বরলিপির বাদল, হিমু, সুমি, দিপ্ত, তোমোকো, মারিয়া, বাবু ছাড়াও ‘উত্তরণ’-এর লিডার নাজিম উদ্দিন সংগীত পরিবেশন করেন।
সার্বিকভাবে স্বরলিপি কালচারাল একাডেমি, টোকিও আয়োজিত ধন্যবাদ জ্ঞাপন দিবসটি, আনন্দঘন, উৎসবমুখর এবং প্রাণবন্ত ছিল।
rahmanmoni@kym.biglobe.ne.jp

সাপ?তাহিক পতিবেদন

প্রবাসে
 মতামত সমূহ
পিছনে 
 আপনার মতামত লিখুন
English বাংলা
নাম:
ই-মেইল:
মন্তব্য :

Please enter the text shown in the image.