[প্রকৃতি ও জীবন] এ সপ্তাহের পর্ব- বড় কাইট্টা সংরক্ষণ

Print Friendly and PDF

বাংলাদেশের বৈচিত্র্যময় প্রতিবেশ ব্যবস্থার অন্যতম নিদর্শন সুন্দরবন। এ বনে লবণাক্ত পরিবেশে বেড়ে উঠছে বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ। নির্ভয়ে বিচরণ করছে পৃথিবীখ্যাত বাংলার বাঘসহ নানা প্রজাতির স্তন্যপায়ী, পাখি, উভচর ও সরীসৃপ প্রাণী। শুধু স্থলেই নয়, সুন্দরবনের নদীতেও দেখা মেলে বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণীর, যার মধ্যে বড় কাইট্টা কাছিম অন্যতম। এদের পিঠের খোলস কালচে-বাদামি রঙের। বুকের খোলস হলদে সাদা। তবে বাচ্চা কাইট্টা জলপাই রঙের। ছোট অবস্থায় এদের পিঠের খোলসে স্পষ্ট ভাঁজ থাকে। খোলসের কিনার অনেকটা করাতের মতো হয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে খোলসের ভাঁজ মসৃণ হতে থাকে। শরীরের তুলনায় বড় কাইট্টার মাথা ছোট হলেও গলা লম্বা। সামনের পায়ে চারটি করে নখরের সঙ্গে ছোট ছোট আঁশ আছে। মজার বিষয় হলোÑ প্রজনন ঋতুতে বাহ্যিক পরিবর্তন শুধু পুরুষ কাইট্টার হয়। এসময় পুরুষ কাইট্টার মাথা ও গলার নিচের অংশ কালচে রঙের এবং বুকের সামনে ও পায়ের সামনের অংশ লাল বা কমলা রঙ ধারণ করে। চোখের রঙেও হলদেভাব আসে। জলচর হলেও স্ত্রী কাইট্টা উপকূলবর্তী নদীতীর বা মোহনার বালুচরে প্রতিবার প্রায় ৩০টি করে ডিম পাড়ে। মাঝারি আকারের ডিমগুলো দেখতে সাদা ও লম্বাটে।
বড় কাইট্টা মিঠাপানি ও লবণাক্ত দুই পরিবেশই মানিয়ে নিতে সক্ষম। দিবাচর বলে এরা দিনের বেলা বেশি সক্রিয় থাকে। খাদ্য হিসেবে মূলত বিভিন্ন ফল, পাতা খায়। তবে সুন্দরী গাছের ফল এদের বেশ প্রিয়।
সুন্দরবনের নদীতে একসময় অনেক বড় কাইট্টা দেখা যেত। এখন মহাবিপন্ন। মাংস খেতে সুস্বাদু বলে নির্বিচারে এদের শিকার করছে শিকারিরা। একই সঙ্গে প্রজনন ভূমি ধ্বংস, বিক্রির জন্য ডিম সংগ্রহের ফলে বড় কাইট্টা আজ পৃথিবীজুড়ে মহাবিপন্ন।
বাংলাদেশে বড় কাইট্টা সংরক্ষণে বিভিন্ন গবেষণা, কৃত্রিম প্রজনন, নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত করতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন গবেষণামূলক কর্মকা- পরিচালিত হচ্ছে। সুন্দরবনের করমজল এবং গাজীপুরের ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানে বড় কাইট্টার কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। তবে বড় কাইট্টা সংরক্ষণে তৃণমূল পর্যায়ে সবচেয়ে বেশি সচেতনতা প্রয়োজন।

সাপ?তাহিক পতিবেদন

ডায়রি/ধারাবাহিক
 মতামত সমূহ
পিছনে 
 আপনার মতামত লিখুন
English বাংলা
নাম:
ই-মেইল:
মন্তব্য :

Please enter the text shown in the image.