[স ম্পা দ কী য়] কওমি শিক্ষা : সনদ ও কৃতজ্ঞতা

Print Friendly and PDF

২০১৩ সাল থেকে ২০১৮ সাল। শাপলা চত্বর থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। ৫ বছরেই বদলে যাওয়া রাজনীতির এক উপাখ্যান। যে হেফাজতে ইসলামের কর্মীরা রাজধানীর শাপলা চত্বরে সরকারবিরোধী সমাবেশ করতে এসে সহিংস আন্দোলন করেছিল, তারাই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এসে সরকারপ্রধানকে ধন্যবাদ জানিয়ে গেল।
২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের ওই সমাবেশ বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা। হেফাজত এবং সরকারের পরস্পরবিরোধী অবস্থান নিয়ে ব্যাপক আলোচনা, সমালোচনা হয় দেশি-বিদেশি মিডিয়াতেও।
কিন্তু সময় গড়াতেই অবস্থান বদলে যায় উভয় পক্ষের। বলা হয়, সরকার টিকে থাকা এবং ভোটের রাজনীতিকে গুরুত্ব দিতে গিয়েই হেফাজত ইস্যুতে নমনীয় হয়। অপরদিকে আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে চ্যালেঞ্জে পড়া কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও সরকারের আনুকূল্য প্রত্যাশা করতে থাকে তাদের সনদ-স্বীকৃতির জন্য। অতীতের বিরোধ কমিয়ে এনে সরকার এবং হেফাজত ইসলামের মধ্যে সমঝোতা হতে থাকে। খোদ প্রধানমন্ত্রীর বাসবভনেও বৈঠকে মিলিত হন হেফাজতে ইসলামের নেতারা। গলতে থাকে বিরোধিতার বরফ। আর এমন বোঝাপড়ার মধ্য দিয়েই অবশেষে স্বীকৃতি মিলল কওমি মাদ্রাসা থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের সনদ।
সরকার কর্তৃক ঘোষিত স্বীকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতেই ৪ নভেম্বর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজন করা হয় ‘শোকরানো মাহফিল’। হেফাজতে আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীর সভাপতিত্বে মাহফিলে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে বিশ্বব্যাপী মুসলমানের মধ্যে নিজেরা নিজেরা হানাহানি, মারামারি, কাটাকাটি সেখানে লাভবান হচ্ছে কারা? যারা অস্ত্র তৈরি করে, অস্ত্র বিক্রি করে তারা লাভবান হয়। রক্ত যায় কাদের? রক্ত যায় আমাদের মুসলমানদের।’ তিনি বলেন, ‘এই কথাটি আমি ওআইসির (ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা)  সেক্রেটারির কাছেও তুলে ধরেছি। আমরা সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ বিরোধী সম্মেলন করেছিলাম জাতিসংঘে, তখনো এই কথাটি বলেছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন,  ‘সোশ্যাল মিডিয়াতে নানা ধরনের অপপ্রচার চালানো হয়, এই অপপ্রচারে কেউ বিশ্বাস করবেন না। এই অপপ্রচার বন্ধ করার জন্য ইতোমধ্যে সাইবার ক্রাইম আইন তৈরি করা হয়েছে। কেউ যদি এই ধরনের মিথ্যা অপপ্রচার করে, সঙ্গে সঙ্গে সেই আইন দ্বারা তাদের বিচার করা হবে, গ্রেপ্তার করা হবে।’
অন্যদিকে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী কওমি শিক্ষার সনদের স্বীকৃতি দেয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই অবদান ইতিহাসে সোনালি অক্ষরে লেখা থাকবে। তিনি ওলামাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।
কওমি মাদ্রাসার শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে সমালোচনা হয়, হয় রাজনীতিও। তবে ধর্মীয় শিক্ষাব্যবস্থায় পিছিয়ে থাকা এই জনগোষ্ঠীর শিক্ষার মান বৃদ্ধির পাশাপাশি সনদের স্বীকৃতির দাবি ছিল দীর্ঘদিন থেকেই। সরকার যে বিবেচনাতেই স্বীকৃতি দিক না কেন, তা এই পিছিয়েপড়া শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়নে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
শুধু সনদ প্রদান বা স্বীকৃতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেই কওমি শিক্ষার্থীদের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে, এমনটি মনে করলে সময় পক্ষে থাকবে না। কওমি শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়ন, অবকাঠামো নির্মাণ, পেশাগত প্রশ্নে মূলস্রোতে আনতে পারলেই সনদ প্রদানের সার্থকতা মিলবে।
৮ নভেম্বর ২০১৮  বর্ষ ১১  সংখ্যা ২০

সাপ?তাহিক পতিবেদন

নিয়মিত বিভাগ
 মতামত সমূহ
পিছনে 
 আপনার মতামত লিখুন
English বাংলা
নাম:
ই-মেইল:
মন্তব্য :

Please enter the text shown in the image.