‘নির্বাচন ঘিরে অনিশ্চয়তা দেখছি না’-আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক

Print Friendly and PDF

আ আ  ম স আরেফিন সিদ্দিক। সাবেক উপাচার্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। রাজনীতি এবং নির্বাচন প্রসঙ্গ নিয়ে মুখোমুখি সাপ্তাহিক-এর।
সকল দলের অংশগ্রহণে দেশে একটি নির্বাচনী পরিবেশ বিরাজ করছে বলে উল্লেখ করেন। ঐক্যফ্রন্ট গঠনকে স্বাগত জানালেও এর নেতৃত্বের আদর্শ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। আদর্শহীন রাজনীতি সমাজের ওপর বিরূপ প্রভাব রাখছে বলে মত দেন। আসন্ন নির্বাচন সুষ্ঠু এবং গ্রহণযোগ্য হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সায়েম সাবু

সাপ্তাহিক : বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে সংকট তা মূলত নির্বাচন ঘিরেই। ফের নির্বাচনের দিনক্ষণ ধার্য হয়েছে। উদ্বেগও আছে। কীভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন নির্বাচনকেন্দ্রিক রাজনীতি?
আ আ  ম স আরেফিন সিদ্দিক :  গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। সংসদীয় শাসন ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট সময় অন্তর নির্বাচন হবে আর এটিই হচ্ছে সাংবিধানিক বিধি-ব্যবস্থা।
গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় ফের নির্বাচনের আয়োজন চলছে দেশে। তফসিল ঘোষণার পর রাজনীতিতে বিশেষ পরিবর্তনও এসেছে। নিবন্ধিত ৩৯টি দল নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে। সার্বিক বিবেচনায় মনে হচ্ছে, দেশে একটি নির্বাচনমুখী পরিবেশ তৈরি হয়ে গেছে।
সাপ্তাহিক : আপনি বলছেন, নির্বাচনমুখী পরিবেশ তৈরি হয়ে গেছে। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন। কমিশন সরকারের হয়ে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
আরেফিন সিদ্দিক : নির্বাচন ঘিরে অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ আমাদের রাজনীতির সংস্কৃতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্বাচনের পরেও অভিযোগ ওঠে। যারা পরাজিত হন তারা কারচুপির অভিযোগ তোলেন জোরোশোরে।
একে অপরের প্রতি বিশ্বাসযোগ্যতা না থাকার কারণেই আন্তঃদলীয় সম্পর্ক এখন নিম্নপর্যায়ে। দলগুলোর মধ্যে আন্তঃযোগাযোগ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অথচ আমাদের এখানে আন্তঃদলীয় সম্পর্কের একটি মজবুত ভিত্তি ছিল।
সাপ্তাহিক : সম্পর্কের এই নিম্নগামিতার জন্য কোন বিষয়কে দায়ী করবেন?
আরেফিন সিদ্দিক : স্বাধীনতার পর আমরা দেখেছি, বঙ্গবন্ধু সকল রাজনৈতিক দলের সঙ্গে পরামর্শ করে রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন।
বিভিন্ন আদর্শের ভিত্তিতে রাজনৈতিক দল গঠন হতেই পারে। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর সেই পরিবেশ আর থাকেনি। আবার ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার পর রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেকার সম্পর্কে পঙ্গুত্ব তৈরি হয়েছে। সম্পর্কের মধ্যে একটি দেয়াল তৈরি হয়েছে। একটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে নিশ্চিহ্ন করার ষড়যন্ত্র দ্বিতীয়টি আর নেই। একটি ক্ষমতাসীন দল বিরোধী দলের ওপর এভাবে নির্যাতন করতে পারে, তা অচিন্তনীয়। মূলত পারস্পরিক অবিশ্বাস তীব্র হয়েছে গ্রেনেড হামলার পর থেকেই।
সাপ্তাহিক : কিন্তু অবিশ্বাস দূর করার দায়িত্ব বর্তমান ক্ষমতাসীন দলেরও?  
আরেফিন সিদ্দিক : এমন দূরত্ব রাতারাতি দূর করা সম্ভব না। দূর করা যায়ও না।
তবে গণতান্ত্রিক উপায়েই মুক্তি সম্ভব। নির্বাচন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক ধারা যদি গতিশীল করা যায়, তাহলে অবিশ্বাস কিছুটা কমবে বলে বিশ্বাস করি। তবে আমি মনে করি, চলমান অবিশ্বাসের রাজনীতি থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে আসা দুষ্কর।
সাপ্তাহিক : এই অবিশ্বাসের রাজনীতি সমাজের ওপর কী প্রভাব ফেলছে?
আরেফিন সিদ্দিক : খারাপ বিষয়ের প্রভাব খারাপই হয়। সমাজে অবিশ্বাস, অস্থিরতা তো বাড়ছেই। এ কারণেই রাজনীতিতে আজ অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ বিরাজমান। এর মধ্য দিয়ে জাতি বিভ্রান্ত হয় মাত্র।
এমন অবিশ্বাসের রাজনীতি যে সমাজকে অনিশ্চয়তার দিকে নিয়ে যায়, তা তো অস্বীকার করা যাবে না। এরপরেও আমরা মনে করি বর্তমান যতই খারাপ হোক, ভবিষ্যৎটা যেন ভালো হয়। আমরা ভালোর দিকে যেতে চাই। আমি মনে করি, রাজনৈতিক সহনশীলতার সময় এসেছে। পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা, সমীহ করলেই রাজনীতি পরিশীলিত হবে। দায় সবার। একটি দল ষড়যন্ত্র করলে অন্যরাও সেই পথ অবলম্বন করতে চাইবে।
সাপ্তাহিক : আসন্ন নির্বাচন ঘিরেও রাজনীতি অনিশ্চয়তার দিকে যায় বলে বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন। আপনার বিশ্লেষণ কী?  
আরেফিন সিদ্দিক : আমি এই নির্বাচন ঘিরে অনিশ্চয়তা দেখছি না। সবাই এখন নির্বাচনমুখী। এমনকি যারা সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের বিরোধিতা করে আসছে, তারাও এখন নির্বাচনী সীমানায়।
তফসিল ঘোষণার পর রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তাতে করে রাজনীতির আবহাওয়া একপ্রকার নিশ্চয়তার বার্তা দিচ্ছে। নির্বাচন এলেই বাংলাদেশে উৎসব দেখা যায়। মনোনয়নপত্র পাওয়া থেকে ভোটের দিন পর্যন্ত এক আনন্দঘন পরিবেশ বিরাজ করে। এখন আমরা সেই আনন্দই দেখতে পাচ্ছি। যে উৎসব আমরা দেখতে পাচ্ছি, তাতে করে যদি বিশেষ কোনো দল বা গোষ্ঠী নির্বাচন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত না হয়, তাহলে বড় ধরনের কোনো সমস্যা হবে তা আমি মনে করি না।
সাপ্তাহিক : ২০১৪ সালে বিএনপি নির্বাচন বয়কট করায় বড় ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হয়েছিল বলে মনে করা হয়?
আরেফিন সিদ্দিক : ওই নির্বাচন বয়কট করে মূলত বিএনপিই চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমার ধারণা, বিএনপি এখন সেটা উপলব্ধি করে। যে কোনো ব্যক্তি বা দল নির্বাচন বয়কট করতেই পারেন। কিন্তু নির্বাচন প্রতিহত করার বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন। নির্বাচন প্রতিহত করা কোনো রাজনীতি হতে পারে না।
সাপ্তাহিক  : গতবারের মতো নির্বাচন প্রতিহত করার কোনো ইঙ্গিত পাচ্ছেন কি-না?
আরেফিন সিদ্দিক :  আমি এখন পর্যন্ত তেমন কোনো ইঙ্গিত বা শঙ্কাবোধ করছি না। নির্বাচন বয়কট করে বিএনপি এখন অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। তারা এই সংকট স্থায়ী করবে বলে আমি মনে করি না বরং তারা নিজেদের অস্তিত্ব বজায় রাখতেই এবারের নির্বাচনে অংশ নেবে।
সাপ্তাহিক : এর বিপরীতে আলোচনা আছে। বিএনপি গতবার নির্বাচন বয়কট করে আওয়ামী লীগকে চরম বিতর্কিত করেছিল বলে বিরোধী পক্ষ মনে করে। গত ৫ বছর আওয়ামী লীগ এক ধরনের চ্যালেঞ্জেই ছিল।
আরেফিন সিদ্দিক :  চ্যালেঞ্জ হয়েছে বটে। তবে তা ধোপে টেকেনি। সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে পূর্ণ মেয়াদে সরকার পরিচালনা করে সরকার জনমনে আস্থা তৈরি করেছে। এর জন্য আওয়ামী লীগ অবশ্যই প্রশংসার দাবি রাখে।
সরকার টানা দশ বছর ক্ষমতায় থেকে যে উন্নয়নের ধারা তৈরি করেছেন, তাতে মানুষ অতীতের বিতর্ক ভুলে গেছে বলেই আমি মনে করি।
সাপ্তাহিক : ২০১৪ সালের পর একটি সুষ্ঠু নির্বাচন দেয়ার কথা ছিল। আর না দেয়ার কারণেই আজকের রাজনীতির সংকট। অস্বস্তি তো আছে?  
আরেফিন সিদ্দিক : সংকট স্থায়ী রূপ পায়নি। সরকার পূর্ণ মেয়াদে দায়িত্ব পালন করে তা প্রমাণ করেছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশ সরকারকে স্বীকৃতি দিয়ে পাশে ছিল। বাংলাদেশে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে করেই প্রমাণ হয় জনসাধারণ এবং বিশ্ব সরকারের প্রতি সমর্থন অটুট রেখেছিল।
আমার মনে হয় না যে লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য নিয়ে বিএনপি নির্বাচন বর্জন করেছিল, তা অর্জন করতে পেরেছিল।
সাপ্তাহিক : বলা হচ্ছে, ঐক্যফ্রন্টের গঠন রাজনীতির গতি পরিবর্তন করছে। আপনি কী মনে করেন?
আরেফিন সিদ্দিক : নির্বাচন ঘিরে দলগুলোর জোটবদ্ধ হয়ে রাজনীতি করার রীতি পুরনো। আবার নির্বাচন উপলক্ষেই জোট ভেঙে যায়। এটি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।
তবে ঐক্যফ্রন্ট গঠনে অস্বাভাবিক বিষয় হচ্ছে আদর্শের বিসর্জন। ড. কামাল হোসেন সাহেবরা মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কথা বলে এমনসব দলের সঙ্গে জোট করলেন, যাদের অনেকেই বাংলাদেশকে স্বীকার করেন না।
ঐক্যফ্রন্টের কোনো কোনো দল সরাসরি মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছে। কেউ কেউ বঙ্গবন্ধুর হত্যার সঙ্গে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিল। জামায়াতের সঙ্গে জোট করে ড. কামাল হোসেনের আদর্শ বিচ্যুতি ঘটিয়েছেন।
মানুষ রাজনীতি করেন আদর্শের জন্য। সেই আদর্শ যদি না থাকে তাহলে রাজনীতির তো আর কোনো অর্থ থাকে না।
সাপ্তাহিক : এই যে আদর্শ বিচ্যুতি! তার মানে গলদ কী আমাদের রাজনৈতিক কাঠামোতেই?
আরেফিন সিদ্দিক : বিচ্যুতির মধ্য দিয়ে কাঠামো ভঙ্গুর হয় এবং আদর্শ বিচ্যুতি ঘটছে পরম্পরায়। এখন আর আদর্শ বলে কিছু নেই। এখন রাজনীতি হচ্ছে শুধুই ক্ষমতায় যাওয়া। নীতি-নৈতিকতা বাদ দিয়ে সংকীর্ণ ব্যক্তিস্বার্থ নিয়েই রাজনীতি করা। এটি অবশ্যই দুঃখজনক। যারা স্বাধীনতার পক্ষের কথা বলছেন, তারাই আজ স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তির সঙ্গে হাত মেলাচ্ছেন।
সাপ্তাহিক : রাজনীতির এই অবনমন সামগ্রিকভাবে দেখা যায় কী-না? আওয়ামী লীগও হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছে।  
আরেফিন সিদ্দিক : হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে রাজনৈতিক কোনো আঁতাত হয়েছে বলে আমি মনে করি না। কওমি মাদ্রাসার লাখ লাখ শিক্ষার্থী আধুনিক শিক্ষার বাইরে। বিশাল একটি জনগোষ্ঠীকে মূলধারার শিক্ষা ব্যবস্থার বাইরে রেখে সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। সরকার সেই তাগিদ অনুভব করেছে। আর এ কারণেই তাদের সনদ দেয়ার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেয়া হলো। এর সঙ্গে রাজনৈতিক জোটের সম্পর্ক আছে বলে মনে করি না।
সাপ্তাহিক : কিন্তু নির্বাচন সামনে রেখে কওমি সনদের স্বীকৃতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা যেতেই পারে?  
আরেফিন সিদ্দিক : আওয়ামী বিরোধীরাই এমন প্রশ্ন তুলছেন। দেশে এখন দুই ধারায় রাজনীতি হচ্ছে। একটি হচ্ছে আওয়ামী লীগ, আরেকটি হচ্ছে আওয়ামী লীগ বিরোধী। ২০ দলীয় জোটের প্রকাশ আওয়ামী লীগের বিরোধিতা করেই। এখন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট যুক্ত হলো।
আওয়ামী লীগবিরোধী শিবির থেকে যে কোনো বিষয়ে বিরোধিতা আসবে এটাই স্বাভাবিক। আর আওয়ামী লীগ এই সমালোচনা মোকাবিলা করেই এগিয়ে যাচ্ছে।
সাপ্তাহিক : ঐক্যফ্রন্ট সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে কী-না?
আরেফিন সিদ্দিক : আমি চ্যালেঞ্জ মনে করছি না। প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি করেছে ঐক্যফ্রন্ট।
সাপ্তাহিক : নির্বাচন ব্যর্থ হওয়ার কোনো আশঙ্কা করছেন?
আরেফিন সিদ্দিক : এখন পর্যন্ত এমন কোনো শঙ্কা প্রকাশ করার কারণ তৈরি হয়নি। এমন কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়নি, যা নির্বাচনকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। আমি মনে করি নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক এবং সুষ্ঠু হবে।  
সাপ্তাহিক : বিরোধী পক্ষের নেতাদের সাজা দেয়া হচ্ছে। মামলা হচ্ছে, গ্রেফতার হচ্ছে। শঙ্কা তো আছেই?
আরেফিন সিদ্দিক : মাঠ ঠিক রাখার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। তফসিল ঘোষণার পরেই নির্বাচন কমিশন প্রার্থীদের সুরক্ষা দেবে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে হবে। অভিযোগ না থাকলে তা গণমাধ্যমে প্রচার করবে। এতে জনগণের আস্থা বাড়বে।
আমি মনে করি, অতীতে কী হয়েছে, তা ভুলে গিয়ে রাজনীতির সঠিক পথে সবাইকে হাঁটা উচিত। ২১ আগস্টের মতো আর কোনো ঘটনা না আসুক তা সবারই কামনা।
সাপ্তাহিক : নির্বাচন না হওয়ার কথাও প্রচার আছে। আপনি কী মনে করেন?
আরেফিন সিদ্দিক : নির্বাচন না হওয়ার কোনো কারণ নেই। প্রজাতন্ত্রে সঠিক সময়ে নির্বাচন না হলে সাংবিধানিক শূন্যতা দেখা যায়। ‘নির্বাচন না হতে পারে’ এই প্রশ্ন তোলাই রাজনীতির জন্য ক্ষতিকর।
সাপ্তাহিক : প্রত্যাশিত না হলেও নির্বাচন ব্যর্থ হয়েছে, আবার আটকেও গেছে।
আরেফিন সিদ্দিক : হ্যাঁ, মানুষ প্রশ্ন তোলে অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে। আমরা সেই অতীতে যেতে চাই না। আমরা গণতান্ত্রিক পথে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। রাতারাতি একটি উত্তম গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠা দেয়া যায় না। কিন্তু আমরা তো চেষ্টা করতে পারি।
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় শুধু ক্ষমতাসীনদের দায়িত্ব না, সকলের দায়িত্ব রয়েছে। বিরোধী দল, গণমাধ্যম, জনসাধারণ সবারই দায়িত্ব পালন করতে হয়।
রাজনৈতিক সমস্যা রাজনৈতিকভাবেই সমাধান করা দরকার।
সাপ্তাহিক : অধিকসংখ্যক প্রার্থী অংশ নিচ্ছে এবারের নির্বাচনে। চমক নেই আওয়ামী লীগের মনোনয়নে। অভিযুক্ত সাংসদদেরই ফের প্রার্থী করা হচ্ছে।
আরেফিন সিদ্দিক : একটি আসনে দলগুলো একাধিক প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে কৌশলগত অবস্থান নিয়ে। তবে আমি মনে করি দলগুলো অবশ্যই চেষ্টা করবে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে প্রার্থী বাছাই করা। অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নিরসনে দলগুলো কাজ করবে বলে মনে করি। রাজনীতিতে দ্বন্দ্ব থাকবেই। তবে সেটা যেন আত্মঘাতী না হয়।
আর আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালিকায় চমক তো আছেই। প্রায় ৫০টি আসনে নতুন মুখ আসছে। এটি তো বড় একটি খবর। বেশ কয়েকজন তরুণ এসেছে। পরিবর্তন আসছে।

সাপ?তাহিক পতিবেদন

সাক্ষাৎকার
 মতামত সমূহ
পিছনে 
 আপনার মতামত লিখুন
English বাংলা
নাম:
ই-মেইল:
মন্তব্য :

Please enter the text shown in the image.