ক্রীড়াঙ্গনে শাস্তি!

Print Friendly and PDF

মোয়াজ্জেম হোসেন রাসেল

দেশের দুই প্রধান খেলা ফুটবল ও হকিতে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বড় ধরনের শাস্তির ঘটনা ঘটেছে। ফুটবলে গত ২৩ নভেম্বর ফেডারেশন কাপের ফাইনালে ঢাকা আবাহনী লিমিটেড ও বসুন্ধরা কিংসের মধ্যকার ম্যাচে মারামারির ঘটনায় লাল কার্ড পাওয়া চারজনকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। একই আসরের কোয়ার্টার ফাইনালে আরামবাগের বিপক্ষে ঢাকা আবাহনী লিমিটেডের ম্যাচে রেফারিকে লাঞ্ছিত করার দায়ে জরিমানার মুখে পড়েছে আরামবাগ ক্রীড়া সংঘ। খেলোয়াড়দের শাস্তি হলেও ক্ষতির মুখে পড়েছে সংশ্লিষ্ট ক্লাবগুলো। কারণ গত ১ ডিসেম্বর শুরু হয়েছে স্বাধীনতা কাপের আসর। সেখানে নিষিদ্ধ খেলোয়াড়দের ছাড়াই খেলতে হবে আবাহনী ও বসুন্ধরাকে। হকির ঘটনা আবার কিছুটা ভিন্ন। গত ৭ জুন প্রিমিয়ার ডিভিশন হকি লিগের শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লিমিটেড ও মেরিনার ইয়াংস ক্লাব। নানা ঘটনার কারণে সেই ম্যাচটি পুরোপুরি শেষ হয়নি। মাঠের পাশাপাশি গ্যালারিতেও ভাঙচুরের মতো ঘটনা ঘটেছে। তাতে শাস্তি পেয়েছেন সংশ্লিষ্ট দুই ক্লাবের একাধিক কর্মকর্তা। ফুটবলে পাঁচজনের মতোই হকিতেও একই সংখ্যক কর্মকর্তা পড়েছেন জরিমানা ও নিষেধাজ্ঞার কবলে। বাফুফের ডিসিপ্লিনারি কমিটির সভায় শাস্তি ও জরিমানার এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। যাকে নিয়ে ঘটনার শুরু তাকেই বড় রকমের শাস্তি দেয়া হয়েছে। আট ম্যাচ নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে বসুন্ধরা কিংসের ডিফেন্ডার সুশান্ত ত্রিপুরাকে। বলা যায় স্বাধীনতা কাপের পর পেশাদার লিগেও কয়েকটি ম্যাচ মিস করবেন।
একই দলের তৌহিদুল আলম সবুজকে ছয় ম্যাচ নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা অর্থদ-ে দ-িত করা হয়েছে। সবুজের সমান শাস্তি পেয়েছেন আবাহনীর ডিফেন্ডার মামুন মিয়া। তাকে ছয় ম্যাচ নিষিদ্ধের সঙ্গে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ২ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছেন দলটির ফরোয়ার্ড নাবীব নেওয়াজ জীবন। যদিও জীবনের শাস্তি নিয়ে কিছুটা মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। কারণ বিভিন্ন টিভি মিডিয়ার ভিডিও ফুটেজে দেখা যাচ্ছে জীবনই প্রথম মার খাওয়ার শিকার হয়েছেন। হকিতে মোহামেডান ও মেরিনারের চার কর্মকর্তাসহ পাঁচজন নিষিদ্ধ হয়েছেন। মেরিনার ইয়াংস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হাসানউল্লাহ খান রানা, মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের হকি ম্যানেজার আরিফুল হক প্রিন্স ও সহকারী ম্যানেজার আসাদুজ্জামান চন্দনকে পাঁচ বছর নিষিদ্ধ এবং এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে প্রত্যেককে আরও দু’বছর করে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এছাড়া মেরিনারের ম্যানেজার নজরুল ইসলাম মৃধাকে তিন বছর নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ওই ম্যাচের টেকনিক্যাল কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা নাজিরুল ইসলাম নাজু তিন বছর হকির সব ধরনের কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ হয়েছেন। এদিকে প্রিমিয়ার লিগে অংশ না নেয়ায় সাবেক চ্যাম্পিয়ন ঊষা ক্রীড়া চক্রকে প্রথম বিভাগ লিগে নামিয়ে দেয়া হয়েছে। বিমানবাহিনীর ফ্যালকন হলে অনুষ্ঠিত হকি ফেডারেশনের গভর্নিং বডির সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভা শেষে ৭ জুনের গোলযোগপূর্ণ অসমাপ্ত ম্যাচ ড্র ঘোষণা করা হয়। তাতে মোহামেডান চ্যাম্পিয়ন ও আবাহনী রানার্সআপ হয়েছে আর মেরিনার হয় তৃতীয়। দেশের বড় দুটি খেলায় শাস্তির এই সিদ্বান্ত নেয়া বেশ কঠিন হলেও শৃঙ্খলা ফেরাতে এর কোন বিকল্প ছিল না বলে জানিয়েছেন ফুটবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগ ও হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আবদুস সাদেক। এখন শাস্তিগুলো ঠিক থাকলেই হয়।

শাস্তি পেলেন চার ফুটবলার
ঢাকার ফুটবলে এমন ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে হাতাহাতি-মারামারির মতো ঘটনা ঘটেছে। তবে একসঙ্গে চারজন খেলোয়াড়কে লাল কার্ড দেখানোর মতো ঘটনা ঘটেনি। গত ২৩ নভেম্বর ফেডারেশন কাপের ফাইনালে ন্যক্কারজনকভাবে মারামারি করায় বিভিন্ন মেয়াদে নিষিদ্ধ হলেন আবাহনী ও বসুন্ধরা কিংসের চার ফুটবলার। সবচেয়ে বড় শাস্তি দেয়া হয়েছে বসুন্ধরা কিংসের ডিফেন্ডার সুশান্ত ত্রিপুরাকে। ৮ ম্যাচ নিষিদ্ধ থাকার পাশাপাশি ১ লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়েছে। একই দলের স্ট্রাইকার তৌহিদুল আলম সবুজ ও আবাহনীর ডিফেন্ডার মামুন মিয়াকে ৬ ম্যাচ নিষিদ্ধের পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। আবাহনীর স্ট্রাইকার নাবীব নেওয়াজ জীবনকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে ২ ম্যাচ। সম্প্রতি বাফুফের ডিসিপ্লিনারি কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ফেডারেশন কাপের ফাইনালের ৮৮ মিনিটের সময় বল দখলের লড়াইকে কেন্দ্র করে প্রথমে সুশান্ত ও জীবন একে অপরের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। কিলঘুষি দিয়ে মারামারির সুত্রপাত হয়। পরে জীবনকে উড়ন্ত লাথি মারেন সুশান্ত। এই ঘটনা শেষ হতে না হতেই দূর থেকে দৌড়ে এসে সুশান্তকে ফ্লাইং কিক মারেন মামুন মিয়া। মারামারির শেষ চরিত্র ছিলেন তৌহিদুল আলম সবুজ। তিনি দৌড়ে গিয়ে ঘুষি মারেন মামুন মিয়াকে। ফাইনালের রেফারি, ম্যাচ কমিশনারের প্রতিবেদন এবং মিডিয়ায় প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজের ওপর ভিত্তি করে বাফুফের ডিসিপ্লিনারি কমিটি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে খেলোয়াড়রা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন। এরই মধ্যে বসুন্ধরা কিংসের তৌহিদুল আলম সবুজ ও সুশান্ত ত্রিপুরা শাস্তি কমানোর দাবি জানিয়ে আপিল করেছেন। এ বিষয়ে আবাহনীর ডিফেন্ডার মামুন মিয়া বলেন, ‘মাঠে যে ঘটনা ঘটেছে তার জন্য রেফারি আমাদের লাল কার্ড দেখিয়েছেন। এখন আবার যে শাস্তি দেয়া হয়েছে সেটিকে আমি অনেক বেশি মনে করছি। আমাকে কঠোরভাবে সতর্ক করলেই হতো যাতে ভবিষ্যতে এমন কাজ না করি। শাস্তি একটু কম হলে ভালো হতো। ফাইনালের দিনের ঘটনার জন্য আমি সারা জীবন অনুতপ্ত থাকব। আমি কখনোই ভাবতে পারিনি আমার দ্বারা এমন ঘটনা ঘটতে পারে’।

শাস্তি পেয়েছে আরামবাগ

ফাইনালের আগে কোয়ার্টার ফাইনালেও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। তবে এখানে রেফারির ওপর চড়াও হয়েছিলেন আবাহনীর সঙ্গে পরাজিত হওয়া আরামবাগ ক্রীড়া সংঘের কর্মকর্তা ও বলবয়রা। এই ঘটনার দায়ে অভিযুক্ত আরামবাগের ম্যানেজার রাশেদুল হক এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছেন। পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা জরিমানা হয়েছে তার। আরামবাগের দুজন বলবয় হয়েছেন আজীবন নিষিদ্ধ। এছাড়া আরামবাগ ক্লাবকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করেছে ডিসিপ্লিনারি কমিটি। ফেডারেশন কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ঢাকা আবাহনীর বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল আরামবাগ ক্রীড়া সংঘ। ২-২ গোলে ড্র থাকা অবস্থায় ম্যাচটি শেষের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। শেষের দিকে ফ্রিকিক থেকে আরামবাগের জালে বল জড়িয়ে দেন কেভিন বেলফোর্ট। আরামবাগের অভিযোগ ছিল, অফসাইড থেকে বলে পা ছুঁয়েছেন বেলফোর্ট। ম্যাচ শেষে ডাগআউট থেকে দৌড়ে মাঠের মধ্যে প্রবেশ করে সহকারী রেফারি হারুন-উর-রশিদকে পেটাতে শুরু করেন আরামবাগের এক কর্মকর্তা! সঙ্গে সাপোর্ট স্টাফরা মিলে কিল-ঘুষি মারতে থাকেন ম্যাচের এই সহকারী রেফারিকে। যদিও আরামবাগের জন্য এমন ঘটনা নতুন নয়। কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগের (বিসিএল) খেলার সময় রেফারির সিদ্বান্ত মনোপুত হয়নি। পরে তারা বাফুফে ভবন ভাঙচুর করে। সেখান থেকে ২০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে আদালত থেকে এই আদেশ স্থগিত করে দেয়া হয়। এবার যে শাস্তি দেয়া হয়েছে সেটাও কি এরকম হবে কিনা সেই প্রশ্ন থেকেই যায়।

হকিতে চার কমকর্তা নিষিদ্ধ
ঘরোয়া হকির বড় দলগুলোর মধ্যকার ম্যাচে কমবেশি ঝামেলা হয়ে থাকে। ৭০ মিনিটের খেলা শেষ হতো কিন্তু ১২০ মিনিট লাগতে দেখা গেছে। আগেরদিন বিকেলের ম্যাচ শেষ হতে পরদিন পর্যন্তও অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। তবে গত ৭ জুন প্রিমিয়ার ডিভিশন হকি লিগে মোহামেডান-মেরিনারের মধ্যকার ম্যাচটি ৪৪ মিনিটের পর আর মাঠে গড়ায়নি। এরপরই ফেডারেশন সেই ম্যাচে মোহামেডানকে বিজয়ী করার পাশাপাশি গ্যালারির মাঠে ঘটে যাওয়া ঘটনার কারণে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা ও একজন ম্যাচ অফিসিয়িালকে বিভিন্ন মেয়াদেও নিষিদ্ধ করার পর আর্র্থিক জরিমানাও করা হয়েছে। দেশের হকির শীর্ষ দুইদলের মধ্যকার শেষ ম্যাচে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার জন্য এই দ- দেয়া হয় দুই ক্লাবের কর্মকর্তাদের। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মেরিনার ইয়াংস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হাসান উল্লাহ খান রানা, মোহামেডান হকি দলের ম্যানেজার আরিফুল হক প্রিন্স ও সহকারী ম্যানেজার আসাদুজ্জামান চন্দনকে ৫ বছরের জন্য নিষিদ্ধ ও এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে এই তিন জনের প্রত্যেককে আরও দুই বছর করে নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত হয়েছে এ সভায়। অন্যদিকে মেরিনারের সদস্য ও হকি দলের ম্যানেজার নজরুল ইসলাম মৃধাকে ৩ বছর নিষিদ্ধের পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া ৩ বছরের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছেন ওই ম্যাচের টেকনিক্যাল কর্মকর্তা নাজিরুল ইসলাম নাজু। এর আগে জাতীয় দলের বিদেশি কোচের সঙ্গে অসভ্য আচরণ ও ক্যাম্পের সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করায় প্রিন্স চন্দনও নিষিদ্ধ হয়েছিলেন বছরতিনেক আগে, নিষিদ্ধ হয়েছিলেন দেশসেরা হকি খেলোয়াড় ও জাতীয় দলের অধিনায়ক রাসেল মাহমুদ জিমিও। শাস্তি প্রসঙ্গে ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আবদুস সাদেক বলেন, ‘যে ঘটনা গত ৭ জুন ঘটেছে সেটা নিয়ে আর নতুন করে কথা বলার কোনো সুযোগ নেই। হকির শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর হতে হয়েছে। প্রিন্স, চন্দন, রানা খেলার সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করেছে; তারা আগেও এমন কাজ করে শাস্তি পেয়েছিল, তারা মুচলেকা দিয়েছিল। নজরুল টেকনিক্যাল জোনে গিয়ে গালাগাল, ভাঙচুর করেছেন, অথচ উনি ফেডারেশন সদস্য। নাজিরুল দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ, আম্পায়ার্স বোর্ডের সাধারণ সম্পাদক হলেও বিদেশি আম্পায়ারদের সহযোগিতা করেননি। ম্যাচের পর কোনো প্রতিবেদনও দেননি। সেই কারণে এই শাস্তি’।

ঊষা ক্রীড়াচক্রের অবনমন
দেশের ক্রীড়াঙ্গনে একমাত্র ক্লাব হিসেবে শুধু হকি খেলার জন্যই জন্ম হয়েছে ঊষা ক্রীড়া চক্রের। সেই ক্লাবটিই এখন হকির বাইরে রয়েছে। গত মৌসুমে খেলেনি প্রিমিয়ার ডিভিশন হকিতে। যার শাস্তিস্বরূপ ক্লাবটিকে নামিয়ে দেয়া হয়েছে প্রথম বিভাগে। সর্বশেষ প্রিমিয়ার হকি লিগে নানা প্রতিবাদে প্রিমিয়ার হকি লিগে অংশগ্রহণ করেনি। হকি ফেডারেশনের সর্বশেষ সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে লিগে না খেলার কারণে ঊষা আগামী মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে খেলতে পারবে না। ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আবদুস সাদেক জানিয়েছেন ঊষাকে রেলিগেটেড করা হয়েছে। তারা লিগে অংশগ্রহণ করেনি। যদিও এর আগে মোহামেডান, মেরিনার, ওয়ারি ক্লাব ও বাংলাদেশ স্পোর্টিং ক্লাবের মতো দলগুলো প্রিমিয়ার হকি লিগে অংশ না নিলেও তাদের কোনো দলকেই প্রথম বিভাগে নামিয়ে দেয়া হয়নি। নিকট অতীতে এমন ঘটনাই আশাবাদী করছে ঊষা ক্রীড়া চক্রের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রশিদ শিকদারকে, ‘গত প্রিমিয়ার ডিভিশন হকি লিগে আমরা অংশ না নেয়ার কারণে উষাকে প্রথম বিভাগে নামিয়ে দেয়া হয়। আগে কয়েকটি ক্লাব প্রিমিয়ার লিগে না খেলার পরও তাদের রেলিগেটেড করা হয়নি। এখন আমরা ফেডারেশনের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছি। তারা এটা নিয়ে নতুন কিছু করে কিনা’।

বদলাবে না তো!
হকিতে খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের নিষিদ্ধ করার মতো ঘটনা আগেও ঘটেছে। এবার ঘটল আরও একবারের মতো। আগে যতবারই এরকম ঘটনায় শাস্তি দেয়া হয়েছে পরে তা কমিয়ে দেয়ার পাশাপাশি প্রত্যাহারও করে নেয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। এবার কি পুরনো সেই পথে হাঁটবে হকি ফেডারেশন সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। কারণ এরই মধ্যে একটি বিষয়ে নমনীয় হয়েছে ফেডারেশন। শুরুতে শাস্তির বিরুদ্ধে আপিলের কোনো সুযোগ না থাকলে পরে সেটি রাখা হয়েছে। বিগত সময়ে দেখা গেছে খেলার মাঠ বা বাইরে ঘটা নানা অপরাধমূলক ঘটনার শাস্তি দিয়ে শেষ পর্যন্ত নিজেদের অবস্থানে থাকতে পারেনি বাফুফে। শাস্তি কমিয়ে আনার নজির রয়েছে। কিন্তু এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। মোহামেডান ও মেরিনারের চার কর্মকর্তাকে দেয়া শাস্তি কমিয়ে আনার কোনো সম্ভাবনাই নেই বলে জানান বাফুফে সাধারণ সম্পাদক আবদুস সাদেক, ‘হকিতে আগে শাস্তি দিয়ে তা কমিয়ে আনার মতো ঘটনা সম্পর্কে আমি জানি। এবার প্রয়োজনে কম দল নিয়ে করা হবে প্রিমিয়ার লিগ আয়োজন। তারপরও ফেডারেশন নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় থাকবে। শাস্তির মেয়াদ কমানোর কোনো সুযোগ নেই। হকি মাঠে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে আমরা বদ্ধপরিকর। যে অপরাধী তার শাস্তি অবশ্যই দেবে ফেডারেশন।’ যদিও মোহামেডান লিগে অংশ না নেয়া আর মেরিনার আদালতে যাওয়া হুমকি দিয়েছে।
mhrashel00@gmail.com

সাপ?তাহিক পতিবেদন

খেলা
 মতামত সমূহ
পিছনে 
 আপনার মতামত লিখুন
English বাংলা
নাম:
ই-মেইল:
মন্তব্য :

Please enter the text shown in the image.