বেনাপোল-যশোর জাতীয় মহাসড়ক উন্নয়নের কাজ শুরু

Print Friendly and PDF

মহসিন মিলন, যশোর থেকে

যশোর-বেনাপোল-যশোর জাতীয় মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের ৩২৯ কোটি টাকার কাজ শুরু হয়েছে গত সপ্তাহ থেকে। দক্ষিণাঞ্চল মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হতে চলেছে। ফলে বেনাপোল ও ভোমরা বন্দর  দিয়ে দু’দেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে সম্প্রসারণে দেখা দিয়েছে ব্যাপক সম্ভাবনা।
দেশের একমাত্র সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোলের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন বাণিজ্যিক শহরের সঙ্গে তৈরি হচ্ছে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা। আন্তর্জাতিক এ মহাসড়কে প্রতিদিন হাজার হাজার পণ্য বোঝাই ট্রাক ও যাত্রীবাহী বাস যাতায়াত করে থাকে। দেশের ২২টি রুটের গণপরিবহনসহ সবধরনের  যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের গুরুত্ব অপরিসীম। সরকারের রাজস্ব আয়ের বৃহত্তম খাত বেনাপোল স্থলবন্দর। দীর্ঘর্দিনের কাস্টমস ও ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে সরকার মহাসড়কটির উন্নয়নে তালিকাভুক্ত করে।
সরকার ইতোমধ্যে ঝিকরগাছার কৃষিসমৃদ্ধ জনপথ নাভারনে ‘অর্থনৈতিক অঞ্চল’ ঘোষণা করেছে। প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণসহ কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। ফলে অত্রাঞ্চলে কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নবদিগন্তের সূচনা করতে যাচ্ছে। সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে এই জনপদের বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবনযাত্রার মান।
মহাসড়কটি অপ্রশস্ত ও জরাজীর্ণ থাকায় সরকারের যোগাযোগ মন্ত্রণালয় সংস্কার ও সম্প্রসারণের উদ্যোগ গ্রহণ করে। যোগাযোগ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য, ঝিকরগাছা-চৌগাছা সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. মনিরুল ইসলাম মনির এ ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তারই একান্ত প্রচেষ্টায় মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা সরেজমিন পরিদর্শন করেন। সংসদ সদস্য বিষয়টি জাতীয় সংসদে একাধিকবার উত্থাপন করেন।
আন্তর্জাতিক মহাসড়কটির সঙ্গে সাতক্ষীরা জেলা সদর ও ভোমরা স্থলবন্দরের যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ যোগসূত্র রয়েছে।
গত ১১ নভেম্বর মহাসড়ক ‘রিকন্সট্রাকশন’ প্রকল্পের দ্বিতীয় ফেজের কাজ শুরু হয়েছে। যশোরের নতুন হাট এলাকা থেকে সড়কের কাজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করা হয়।
যশোর সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী বিশ্বাস শফিকুল ইসলাম জানান, নির্মাণ কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মোজাহার এন্টারপ্রাইজ। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি ২০১৭ সালের ১০ অক্টোবর কার্যাদেশ পায়।
তিনি আরও জানান, ৩৮ কিমি বেনাপোল-যশোর মহাসড়কটির উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় ফেজের ১৮ কিমি সড়ক উভয় পাশে ৩ ফুট করে ৬ ফুট প্রশস্ত করা হচ্ছে। ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষী গাছ সংরক্ষণ করতে ৫ কিলোমিটার সড়ক অতিরিক্ত ৬ ফুট সম্প্রসারণ বাদ রাখা হবে। আগামী ২ বছরের মধ্যে প্রকল্পের নির্মাণকাজ সমাপ্ত করার নির্দেশনা রয়েছে। উল্লেখ্য, সরকার প্রতিবছর বেনাপোল বন্দর থেকেই ৭ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আয় করে থাকে। এই বন্দর দিয়ে বছরে ৩০ হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য হয় ভারতের সঙ্গে। সড়ক নির্মাণে ফাঁকি দেয়া হচ্ছে কিনা সেটি সরেজমিনে দেখতে যশোর নাগরিক কমিটি নির্মাণকাজ পরিদর্শন করেছে।

সাপ?তাহিক পতিবেদন

দেশজুড়ে
 মতামত সমূহ
পিছনে 
 আপনার মতামত লিখুন
English বাংলা
নাম:
ই-মেইল:
মন্তব্য :

Please enter the text shown in the image.