[স ম্পা দ কী য়] তাবলিগে সংঘর্ষ : চাই শুভবুদ্ধির উদয়

Print Friendly and PDF

ইজতেমার ময়দানে সংঘর্ষ    [প্রথম আলো]
ইজতেমা মাঠের সংঘর্ষ ছড়িয়ে দুর্ভোগে ঢাকা    [কালের কণ্ঠ]
ইজতেমার আধিপত্য নিয়ে সংঘর্ষ, নিহত ১    [সমকাল]
ব্যাপক সংঘর্ষ তাবলিগের দুই গ্রুপে    [বাংলাদেশ প্রতিদিন]
টঙ্গীতে তাবলিগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত ১ আহত দুই শতাধিক    [বণিক বার্তা]
ইজতেমা মাঠ রণক্ষেত্র, নিহত ১    [যুগান্তর]
টঙ্গীতে তাবলিগের দুই গ্রুপে ব্যাপক সংঘর্ষ    [ইত্তেফাক]

২ ডিসেম্বর ২০১৮ রোববার দেশের প্রধানতম দৈনিক সংবাদপত্রের শিরোনাম এসেছে এভাবেই তাবলিগ জামাতের দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের কারণে। খবরে বলা হয়েছে, পাঁচ দিনের জোড়কে (বিশ্ব ইজতেমার প্রস্তুতি সম্মেলন) কেন্দ্র করে ১ ডিসেম্বর ২০১৮ শনিবার তাবলিগ জামাতের দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে একজন মারা গেছেন। আহত হয়েছেন দুই শতাধিক ব্যক্তি। সংঘর্ষ চলাকালে ইজতেমা ময়দান ও আশপাশের এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ঢাকা-ময়মনসিংহ, ঢাকা-আশুলিয়া মহাসড়কসহ আশপাশের প্রায় সব সড়কই বন্ধ হয়ে যায়। চরম দুর্ভোগে পড়েন বিদেশগামী যাত্রীসহ বহু মানুষ।
সংঘর্ষে নিহত ব্যক্তির নাম ইসমাইল ম-ল (৬২)। তার বাড়ি মুন্সীগঞ্জের মিল্কিপাড়ায়। তিনি ভারতের নিজামুদ্দিন মারকাজের মুরব্বি মাওলানা সাদ কান্ধলভীর অনুসারী ছিলেন। মাওলানা সাদের অনুসারীদের সঙ্গে ভারতের দেওবন্দ মাদ্রাসা এবং বাংলাদেশের কওমি ও হেফাজতপন্থি আলেমদের অনুসারীদের মধ্যে এদিন এ সংঘাত হয়। দু’পক্ষের মধ্যে ১ বছরের বেশি সময় ধরে বিরোধ চলে আসছে।
সংঘর্ষের পর বিকেলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দু’পক্ষের সঙ্গে বৈঠকে বসেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে কোনো ধরনের জোড়, প্রস্তুতি সম্মেলন বা ইজতেমা হবে না। এ ধরনের সব কার্যকলাপ বন্ধ থাকবে। নির্বাচনের পর তাবলিগের মুরব্বিরা বসে ইজতেমার দিনক্ষণ ঠিক করবেন। ততদিন ইজতেমা মাঠ প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
দুই.
ইসলামের বাণী পৌঁছে দেয়া এবং প্রকৃত ইসলামি জীবন পালন করার এক দাওয়াতের মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলেছে তাবলিগ জামাতের দ্বীনি কাজ, এতদিন সেটাই ছিল তাবলিগের পরিচয়। এক অর্থে নিরীহ, প্রকৃতিতে অহিংস, ধৈর্য, শান্তি আর মহব্বতের পথে এতকাল হেঁটে এসেছিল তাবলিগ জামাত। বহু বছরের চেষ্টায়, বহু মানুষের দ্বীনি শ্রম-ঘামে এই আয়োজন একটা বড় চেহারাও পায়। বাংলাদেশে তাবলিগ জামাতের ইজতেমা, হজের পরে মুসলমানদের বড় জামাত বলে ধরা হতো। বছরের পর বছর ধরে এত বড় জামাত অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে ও শৃঙ্খলার সঙ্গে আয়োজন করে বাংলাদেশ বিশ্ববাসীর দৃষ্টিও কেড়েছে।
অথচ হঠাৎ করে এই অহিংস, তুলনামূলক নিরাপদ ধর্মীয় গোষ্ঠীটিও সহিংস হয়ে উঠল। রক্তাক্ত হলো টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা মাঠ। যে কারণেই হোক না কেন, যার কারণেই হোক না কেন, ধর্মের  নামে এই রক্তপাত নিন্দনীয়।
কোনো অবস্থাতেই এই বিভেদকে আর রক্তপাতময় বিভক্তির দিকে এগিয়ে যেতে দেয়া ঠিক হবে না। সকল পক্ষের শুভবুদ্ধির উদয় হওয়া তাই জরুরি।

৬ ডিসেম্বর ২০১৮  বর্ষ ১১  সংখ্যা ২৪

সাপ?তাহিক পতিবেদন

নিয়মিত বিভাগ
 মতামত সমূহ
পিছনে 
 আপনার মতামত লিখুন
English বাংলা
নাম:
ই-মেইল:
মন্তব্য :

Please enter the text shown in the image.