স্বরলিপি কালচারাল একাডেমি টোকিও’র বার্ষিক বনভোজন ২০১৮

Print Friendly and PDF

জাপানে বাংলাদেশের সংস্কৃতি বিকাশকারী জাপান প্রবাসীদের প্রিয় সাংস্কৃতিক সংগঠন স্বরলিপি কালচারাল একাডেমি টোকিও’র বার্ষিক বনভোজন ২০১৮ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কনকনে শীতের মধ্যেও ৯ ডিসেম্বর ‘১৮ টোকিওর অদূরে কানাগাওয়া প্রিফেকচার এর ইয়োকোহামা সিটি মুসাশি কোসুগিতে আয়োজিত বার্ষিক বনভোজনে স্বরলিপি’র একঝাঁক শিশুকিশোরসহ প্রাক্তন শিক্ষার্থীবৃন্দ, শিক্ষক শিক্ষিকাবৃন্দ, আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দদের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন জাপানস্থ বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা এবং প্রথম সচিব মোঃ বেলাল হোসেন।
বনভোজন নাম দেয়া হলেও এটি আসলে নিছক বনভোজন নয়।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিনোদনের মাধ্যমে শিক্ষায় উৎসাহিত করার জন্য বছরে একাধিকবার (প্রতি চার মাস অন্তর) আয়োজন করা হয় বনভোজনের। বনভোজন নাম হলেও বিভিন্ন উদ্যান বা স্থানীয় সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র ভাড়া নিয়ে জাপানে বেড়ে ওঠা শিশু-কিশোরদের বাংলাদেশে খাদ্য সংস্কৃতি, পোশাক সংস্কৃতি, শিল্প, সাহিত্য, কৃষ্টি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচয় করানো হয়। আয়োজন থাকে বিভিন্ন বিনোদনের। শুধু শিশু-কিশোরদের জন্যই যে বিনোদনের ব্যবস্থা থাকে তা কিন্তু নয়, থাকে তাদের অভিভাবক এবং অংশ নেয়া সকলের জন্যও বিনোদনের ব্যবস্থা।
প্রবাসে জন্ম নেয়া শিশুকিশোরদের বছরব্যাপী নিজ দেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ভাষা শিক্ষা শেষে বিনোদনের মাধ্যমে উৎসাহিত করার প্রয়াসে এ আয়োজনটি  করে থাকে স্বরলিপি। এবছর প্রাক্তন দুইজন জাপানিজ শিক্ষার্থীদের আমন্ত্রণ জানিয়ে সম্মানিত করা হয়। এমি নাগানো ও আইকো মিতসুহাশি  নামের এই দু’জন প্রাক্তন শিক্ষার্থী  যথাক্রমে ২০১২ এবং ২০১৩  সালে স্বরলিপি কালচারাল একাডেমি থেকে বাংলা সংস্কৃতি শিক্ষা বর্ষ সমাপ্ত করেন। তারা দুইজনই জাইকা’র সহযোগী সংগঠন জেওসিভি (জাপান ওভারসীজ কো-পেরেশন ভলান্টিয়ার) শিক্ষার্থী হিসেবে যথাক্রমে মুনশী রোকেয়া সুলতানা এবং মুনশী কে, আজাদ এর কাছে প্রথম বাংলা ভাষা অধ্যয়ন করেন। সেই থেকে তারা বাংলাদেশ এবং বাংলা সংস্কৃতির প্রতি আকৃষ্ট হয়ে স্বরলিপি’র বিদ্যালয় থেকে শিক্ষাবর্ষ সমাপ্ত করেন।
প্রসঙ্গত জাপানে বাংলা ভাষা বলতে পারা যতো জাপানিজ রয়েছেন বিশেষ করে জাইকা সংশ্লিষ্ট, তাদের প্রায় সকলেই কোনো না কোনোভাবে মুনশী আজাদ দম্পতির কাছ থেকে শিক্ষা নিয়েছেন। তাদের অনেকেই এখন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষাদানরত। এইজন্য মুনশী আজাদ দম্পতিকে শিক্ষকদের শিক্ষক বলা হয়ে থাকে।
৯ ডিসেম্বর বনভোজন আয়োজনে রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা শিক্ষার্থীদের হাতে স্বরলিপি’র পক্ষে উপহার সামগ্রী তুলে দেন।
স্বরলিপি’র উপহার ছাড়াও জাপানিজ ভাষায় অনুবাদকৃত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনভিত্তিক গ্রাফিক নভেল ‘মুজিব’ দূতাবাসের পক্ষ থেকে স্বরলিপি’র শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেন রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা।   
বরাবরের মতো এবারও স্বরলিপির বার্ষিক বনভোজন আয়োজনের পেছনে স্বরলিপি স্কুল পরিচালনা ও সমন্বয় পর্ষদ এর তপন পাল ও তনুশ্রী গোলদার বিশ্বাসের তত্ত্বাবধানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষিকাবৃন্দ এবং নেপথ্যের কারিগর হিসেবে সর্বজন শ্রদ্ধেয় মুনশী আজাদ ও রেনু আজাদ দম্পতি এবং স্বরলিপি’র অধ্যক্ষ নাসিরুল হাকিম অক্লান্ত শ্রম দিয়ে থাকেন।
আর শিক্ষক-শিক্ষিকা প্যানেলে রয়েছেন সংগা ঘোষ (নাচ), মিতালী ঘোষ ( গান), তপন পাল (বাংলা), বনানী পাল (বাংলা), পলি সরকার (বাংলা) এবং কাকলি পাল (বাংলা)।
বর্তমানে শিক্ষার্থী হিসেবে রয়েছেন কাব্যজ্যোতি বিশ্বাস, শৌর্য দত্ত, ভাগ্যশ্রী পাল, প্রগতি ঘোষ, সৃজিতা বিশ্বাস, খান মোঃ আকিদ, সম্প্রীতি ঘোষ, সৃদিকতা বাড়ই, আদিত্য সাহা এবং শ্রেয়া পাল।
এছাড়াও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন তনুশ্রী পাল, আইকো মিতসুহাশি, ইয়ুতো কুদ্দুস, ইয়ুকি কুদ্দুস, সেঁজুতি ব্রহ্ম এবং এমি নাগানো।
দিনভর  বিভিন্ন মুখরোচক খাবার গ্রহণ, বিভিন্ন গেইম ও বিনোদনমূলক আয়োজনে অংশগ্রহণ এবং আড্ডার মাধ্যমে শিশুকিশোরদের সঙ্গে বড়দেরও মেতে উঠতে দেখা যায় বার্ষিক এ আয়োজনে।
বিনোদনমূলক আয়োজনের মধ্যে ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ঝুড়িতে বল নিক্ষেপ, মিউজিক্যাল পিলো এবং সব শেষে সবার অংশগ্রহণে বিংগো গেইম। প্রতিটি আয়োজনেই পুরস্কৃত করা হয়। এছাড়াও অংশগ্রহণকারী শিশু-কিশোরদের বিশেষ পুরস্কার দেয়া হয়।
মিউজিক্যাল পিলো গেইমে ছোট্টমণি সেঁজুতি ব্রহ্ম প্রথম পুরস্কার এবং মুনশী রোকেয়া সুলতানা রেণু রানার আপ পুরস্কার লাভ করার গৌরব অর্জন করেন।
উল্লেখ্য, বিভিন্ন প্রতিকূলতা সত্ত্বেও এই প্রবাসে বাংলা কৃষ্টি সংস্কৃতি তুলে ধরার জন্য পঁচিশ বছর ধরে চেষ্টা করে যাচ্ছে ‘স্বরলিপি কালচারাল একাডেমি টোকিও’র পরিচালনায় বাংলা শিক্ষা কার্যক্রম। যার শুরু হয়েছিল জাপান প্রবাসী সর্বজন শ্রদ্ধেয় মুনশী কে. আজাদ এবং রোকেয়া সুলতানা রেণু আজাদ দম্পতির বাসা থেকে। এরপর টোকিওর নিনগিও চো-তে বাংলাদেশের সুহৃদ, বাংলা ভাষা প্রেমী  জাপানি ব্যবসায়ী কেইসুকে নাকাগাওয়া’র (যার সহধর্মিণী ছিলেন একজন বাংলাদেশি) মহানুভবতায় তারই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের একটি অংশে স্বরলিপি’র শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দেন। কিন্তু পরবর্তীতে ব্যবসায়িক কারণে সেটিও বন্ধ হয়ে যায়।
এরপর টোকিওর কিতা সিটি চুউও কোউএন বুনকা সেন্টার-এ কিছুদিন এর কার্যক্রম চলে। এক সময় বিল্ডিং-এর সংস্কার কাজে সেখানেও শিক্ষা কার্যক্রম একপর্যায়ে বন্ধ হয়ে যায়। বিভিন্ন প্রতিকূল পরিবেশের সেই মুহূর্তে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. তপন কুমার পাল এবং সংস্কৃতিমনা, প্রকৌশলী তনুশ্রী গোলদার বিশ্বাস এর হাল ধরেন। মুনশী আজাদ এবং রেণু আজাদের অনুপ্রেরণায় এবং তাদের তত্ত্বাবধানে ২০১৩ সাল থেকে কানাগাওয়া প্রদেশের কাওয়াসাকি সিটিতে বহুবিধ শিক্ষামূলক কার্যক্রম আবারও শুরু হয়। প্রথমদিকে নৃত্যকলা দিয়ে বিদ্যালয়টির প্রধান কার্যক্রম শুরু করা হয়।
পরবর্তীতে বাংলাভাষা বাংলাদেশি সংস্কৃতির মূল আকর্ষণ বাংলা ভাষা শেখানোর প্রতি জোর দেয়া হয়। একই সঙ্গে শুরু হয় বাংলা গানের তালিম দেয়া।
rahmanmoni@kym.biglobe.ne.jp

সাপ?তাহিক পতিবেদন

 মতামত সমূহ
Author : alana bui
I really wanted to send a small word to say thanks to you for the fantastic points you are writing on this site. i returned to Manga Fox
পিছনে 
 আপনার মতামত লিখুন
English বাংলা
নাম:
ই-মেইল:
মন্তব্য :

Please enter the text shown in the image.