[স ম্পা দ কী য়] সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম উদাহরণ হয়ে থাকবেন

Print Friendly and PDF

আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাবেক জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে (১৯৫২-২০১৯) বিদায় জানাল দেশবাসী। ৬৭ বছর বয়সী সৈয়দ আশরাফ ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। কয়েক মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর ৩ জানুয়ারি ২০১৯ রাতে মৃত্যু হয় তার। ৬ জানুয়ারি জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় তাকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। তার মৃত্যুতে গোটা জাতি শোকাহত। তার দল আওয়ামী লীগের নেতারা স্পষ্টই বলছেন, এ ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার নয়। শুধু তাই নয়, সৈয়দ আশরাফের কৃতিত্ব এতটাই উঁচুতে যে, বিভেদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি দেশের সব কিছু গ্রাস করলেও আশরাফুল ইসলাম ঠিকই শ্রদ্ধা পেয়েছেন তার বিরোধীদের কাছ থেকে। তার চেয়ে বড় রাজনৈতিক নেতা হিসেবে স্বীকৃতদের অনেকেরই যে এমন সৌভাগ্য হবে না তা নিশ্চিতভাবেই বলা চলে। আশরাফ ছিলেন তাদের তুলনায় অগ্রসর, অনন্য।
সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ১৯৫২ সালের ১ জানুয়ারি ময়মনসিংহে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা বাংলাদেশের প্রথম মুজিবনগর সরকারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম। আশরাফুল ইসলাম ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধে মুক্তি বাহিনীর একজন সদস্য ছিলেন। তিনি ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি বৃহত্তর ময়মনসিংহের ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় সহপ্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১/১১-এর সময়ে যখন আওয়ামী লীগের প্রয়াত সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল গ্রেফতার হন, তখন সৈয়দ আশরাফুল আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। মৃত্যুকালে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, সরকারের জনপ্রশাসনমন্ত্রী ও কিশোরগঞ্জ-১ থেকে সদ্য নির্বাচিত সংসদ সদস্য। এর আগে তিনি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
সৈয়দ আশরাফ যে দল-মত নির্বেশেষে সবার শ্রদ্ধা পেয়েছেন, এর কারণ তার সততা। দুর্নীতিতে অগ্রসর এই দেশের এত বড় নেতা হয়েও তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো অভিযোগ নেই। বিরোধীদের দমনে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তার বিরুদ্ধে নেই। নিজের মূর্তিটা তিনি এমনভাবে গড়েছেন যে, তার কথা ভেবে কেউ ভীত হয় না। যেমন সাধারণ জীবনযাপন করেছেন, তার মাপের লোকদের মধ্যে এমন উদাহরণও কমই পাওয়া যাবে।
রাজনীতিতে অনেক কিছু হয়, কিন্তু তার নাম জড়িয়ে কোনো ষড়যন্ত্রের অভিযোগ কখনই ওঠেনি। তিনি ছিলেন একজন পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ। দলের প্রতিও তিনি ছিলেন অবিচল। গর্ব করে বলতেন, আমি আওয়ামী লীগের সন্তান। আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে তার ভূমিকা ছিল কা ারির। শেখ হাসিনাকে যখন গ্রেপ্তার করে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয় তখন সারা দেশে দলকে সংগঠিত করে তার মুক্তির পথ ত্বরান্বিত করেছিলেন সৈয়দ আশরাফ। তার মতো ত্যাগী, বিচক্ষণ, দূরদর্শী ও সজ্জন রাজনীতিকের শূন্যতা ‘কখনোই পূরণ হওয়ার নয়’।

১০ জানুয়ারি ২০১৯  বর্ষ ১১  সংখ্যা ২৯

সাপ?তাহিক পতিবেদন

 মতামত সমূহ
পিছনে 
 আপনার মতামত লিখুন
English বাংলা
নাম:
ই-মেইল:
মন্তব্য :

Please enter the text shown in the image.