[স ম্পা দ কী য়] জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে ৬ শতাংশ

Print Friendly and PDF

বাংলাদেশ এই মুহূর্তে শ্রমিক আন্দোলন প্রত্যক্ষ করছে। শ্রমিকরা বলছে, নতুন মজুরি কাঠামোতে যে মূল মজুরি নির্ধারিত হয়েছে, তা বিদ্যমান মজুরির তুলনায় কম। প্রতি বছর ৫ শতাংশ হারে ইনক্রিমেন্ট পেয়েছেন যে শ্রমিকরা তাদের বর্তমান মূল বেতনের চেয়ে নতুন কাঠামোর মূল বেতন কম। শ্রমিক আন্দোলনের চলমান এ ঘটনাবলি থেকে জানা গেল, সরকার শ্রমিকদের ৫ শতাংশ হারে ইনক্রিমেন্ট দেয়ার ব্যবস্থা রেখেছে। শ্রমিকরা বলছে, এটা প্রয়োজনের তুলনায় নগণ্য এবং এর চেয়েও কম দেয়ার চেষ্টা হচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতেই কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (ক্যাব) জানিয়েছে, বাংলাদেশে ২০১৮ সালে জীবনযাত্রার ব্যয় ৬ শতাংশ বেড়েছে। একই সময় পণ্যমূল্য ও সেবা-সার্ভিসের মূল্য বেড়েছে ৫ দশমিক ১৯ শতাংশ। ক্যাব জানিয়েছে, সারা বছর ধরে চালের মূল্য বাড়তিই ছিল। বছরের শেষে সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসলেও ২০১৭ সালের তুলনায় ২০১৮ সালে সব ধরনের চালের গড় মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে ৮ দশমিক ৯১ শতাংশ। তবে সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে সাবানের, যা গড়ে প্রায় ২০ শতাংশ। অন্যান্য পণ্যের মধ্যে মাছ, তরল দুধ, গরম মসলা, মাংস ও দেশি ডিমের দাম বেড়েছে।
দেখা যাচ্ছে, নাগরিকের মৌলিক ভোগ্যপণ্যগুলোর বেশ কিছুর দাম বেড়েছে। মাছের দাম বেড়েছে ১৩ দশমিক ৫০ শতাংশ, শাক-সবজিতে ৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ, চা-পাতায় ৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ, পান-সুপারিতে ৭ দশমিক ১৮ শতাংশ, তরল দুধে ১০ দশমিক ৩৩ শতাংশ, গরম মসলায় ৮ শতাংশ, মাংসে ৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ, মুরগিতে ২ দশমিক ৭৯ শতাংশ,  ডিমে ৭ দশমিক ৭১ শতাংশ।
২০১৮ সালে দেশি থান কাপড়ের দাম বেড়েছে ১০ দশমিক ৬৪ শতাংশ আর বিদেশি কাপড়ের দাম বেড়েছে ৬ দশমিক ৪৯ শতাংশ, দেশি শাড়ির দাম বেড়েছে ৬ দশমিক ৫৯ শতাংশ আর গেঞ্জি, তোয়ালে ও গামছায় দাম বেড়েছে ৭ দশমিক ৯৪ শতাংশ। নারিকেল তেলের দাম বেড়েছে ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ। ওয়াসার সরবরাহকৃত পানির মূল্য প্রতি হাজার লিটারে বেড়েছে ৫ শতাংশ। দুই-কক্ষবিশিষ্ট বাড়ি ভাড়া বেড়েছে গড়ে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ।
কিছু পণ্যের দাম যে কমেনি, তা নয়। ২০১৮ সালের পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ডাল, লবণ, মসলা, চিনি ইত্যাদি পণ্যের দাম কমেছে। বেশকিছু শাক-সবজির দামও নিম্নমুখী ছিল। এ সময় গ্যাস, বিদ্যুৎ, জ্বালানি তেল এবং বাস ও রেলের ভাড়া বাড়েনি। যেসব পণ্যের মূল্য বহুলাংশে স্থিতিশীল ছিল তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ভোজ্যতেল এবং গুঁড়া দুধ।
পণ্য ও সেবামূল্যের গতিপ্রকৃতি বিবেচনায় নিয়ে ভোক্তার স্বার্থ সুরক্ষায় ক্যাব বেশকিছু প্রস্তাবনা হাজির করেছে। এর মধ্যে রয়েছে :
১.    খেলাপি ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধির কারণে আমানতকারীগণ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং তাদের অর্থের নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে। সরকারি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের নিয়োগ পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনে পর্ষদের জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং আইনের সংস্কার করে দ্রুত খেলাপি ঋণ আদায়ের ব্যবস্থা করা।
২.    আমদানি শুল্কের ব্যাপক হ্রাস এবং লবণসহ যেসব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ অবিলম্বে সেসব পণ্যের অবাধ আমদানির সুযোগ সৃষ্টি করা।
ক্যাব-এর এসব সুপারিশ জনস্বার্থের অনুকূল। সরকারকে অবশ্যই জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধিকে যৌক্তিক সীমার মধ্যে রাখতে হবে। ভোক্তার অধিকার বাস্তবায়ন করতে হবে। নাগরিকের ক্রয়ক্ষমতার ভারসাম্য যাতে নষ্ট না হয়, সেজন্য যথাসময়ে মজুরি বুদ্ধির ব্যবস্থা রাখতে হবে। সমাজে সুশাসন ও গণতান্ত্রিক চর্চার ক্ষেত্র প্রশস্ত করতে হবে।

১৭ জানুয়ারি ২০১৯  বর্ষ ১১  সংখ্যা ৩০

সাপ?তাহিক পতিবেদন

 মতামত সমূহ
পিছনে 
 আপনার মতামত লিখুন
English বাংলা
নাম:
ই-মেইল:
মন্তব্য :

Please enter the text shown in the image.